ফেসবুক বা ইউটিউব এর ইনকাম কি হারাম??

ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম কিছুদিন আগেও ছিল বিনোদনের মাধ্যম্ মাত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এগুলো এখন হয়ে উঠেছে আয়েরও অন্যতম উৎস। এবং সেই আয়ের পথটাও দিন দিন হয়ে উঠছে সুগম এবং সহজলভ্য। যে কেউ এখন ইচ্ছা করলেই এসব মাধ্যম থেকে বিশাল অংকের টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হালাল নাকি হারাম। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এসব থেকে আয় হালাল বা হারাম —তা নির্ভর করে আয়ের উৎস, বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট কেমন তার ওপর।

ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম কিছুদিন আগেও ছিল বিনোদনের মাধ্যম্ মাত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এগুলো এখন হয়ে উঠেছে আয়েরও অন্যতম উৎস। এবং সেই আয়ের পথটাও দিন দিন হয়ে উঠছে সুগম এবং সহজলভ্য। যে কেউ এখন ইচ্ছা করলেই এসব মাধ্যম থেকে বিশাল অংকের টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হালাল নাকি হারাম। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এসব থেকে আয় হালাল বা হারাম —তা নির্ভর করে আয়ের উৎস ও কনটেন্ট কেমন তার ওপর।

কখন ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হালাল হয়:

১. হালাল কনটেন্ট : ইনকাম হালাল হওয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে কনটেন্ট হালাল হওয়া। যেমন ইসলামি আলোচনা, শিক্ষামূলক ভিডিও, ভ্রমণ, রান্না, টিউটোরিয়াল, হস্তশিল্প ইত্যাদি হচ্ছে হালাল কনটেন্ট।

২. অশ্লীলতা/মিথ্যা/ধোঁকা মুক্ত : কনটেন্ট শুধু হালাম হলেই হবে না, লেখা বা ভিডিওতে অশ্লীল দৃশ্য, মিথ্যা তথ্য, গীবত, অপবাদ, সঙ্গীত (যদি হারাম ধরণের হয়) ইত্যাদি না থাকে।

৩. হারাম বিজ্ঞাপন বন্ধ: ইউটিউব সাধারণত নিজে থেকে বিজ্ঞাপন দেয়, যার মধ্যে হারাম জিনিস (মদ, জুয়া, অশ্লীলতা) থাকতে পারে। এসব এড়িয়ে চলা উচিত। ইউটিউব “Ad category blocking” অপশন দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কখন ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হারাম হতে পারে:

১.  শরীর প্রদর্শন, গানের ভিডিও, নাচ, অপসংস্কৃতি—এসবের মাধ্যমে আয় করলে তা হারাম হয়।

২. মিথ্যা সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে টাকা আয় করলে সেটা হবে জুলুম ও গুনাহ।

৩. হারাম পণ্যের প্রচার বা হারাম বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত টাকা হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

আলেমদের মতামত:

বিশ্বস্ত আলেমরা বলেন, “ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হালাল যদি কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন শরিয়তসম্মত হয়।” কেউ যদি সরাসরি হারাম কিছু প্রচার না করেও ভিডিওর মাধ্যমে হারাম বিজ্ঞাপন চালায়, তাও সন্দেহজনক হতে পারে।ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় নিজে হালাল বা হারাম নয়; এটি নির্ভর করে আপনি কী উপায়ে, কী কনটেন্ট দিয়ে ও কীভাবে আয় করছেন তার উপর। একে হালাল রাখতে চাইলে সচেতনভাবে ইসলামি সীমারেখা মেনে চলা জরুরি।

প্রশ্ন: ইউটিউব, ফেসবুক বা ব্লগ অ্যাডসের মাধ্যমে ইনকাম করা হালাল নাকি হারাম? ইউটিউব, ফেসবুক বা ব্লগ থেকে ইনকাম মূলত বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়। ধরুন, আপনার একটি প্রতিষ্ঠান আছে—হালাল হোক বা হারাম, আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে বা প্রচারণা চালাতে গুগল, ফেসবুক বা ইউটিউবের সাহায্য নিলেন। আপনি তাদের ১০০ টাকা দিলেন, যার মধ্যে ৫৫ টাকা তারা রেখে দিল এবং বাকি ৪৫ টাকা যাদের ভিডিও বা ব্লগ সাইটে বিজ্ঞাপনটি দেখানো হলো, তাদেরকে দিল।এখন যদি আমি ফেসবুক, ইউটিউব বা ব্লগ সাইটে একটি আর্টিকেল বা ভিডিও প্রকাশ করি এবং সেই মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, তাহলে সেই বিজ্ঞাপন থেকে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে নাকি হারাম?

আমার কন্টেন্টে কী ধরনের বিজ্ঞাপন আসবে, সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাদের অ্যালগরিদম এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। তবে আমাদের হাতে কিছু নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে, যেমন: ১৮+ কনটেন্ট, মদ, জুয়া, সুদভিত্তিক লোন ইত্যাদি নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির বিজ্ঞাপন ব্লক করা যায়। গুগল অ্যাডস, ফেসবুক অ্যাডস ও ইউটিউব মনিটাইজেশন সেটিংস থেকে কিছু ফিল্টার প্রয়োগ করা সম্ভব। তবুও বিজ্ঞাপনদাতারা যদি চালাকি করে অন্যভাবে বিজ্ঞাপন দেখায়, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আমার কনটেন্টে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন আসতে পারে, যেমন: খাবার ও পানীয়, ইলেকট্রনিক্স (মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি),পোশাক ও ফ্যাশন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম বা শপের বিজ্ঞাপন, সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ ও গেম, অনলাইন কোর্স ও শিক্ষা বিষয়ক বিজ্ঞাপন, ব্যবসা ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, বেটিং (জুয়া) অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, মদ ও পানীয়, সুদভিত্তিক ব্যাংক ও লোন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, অনৈতিক ডেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, ক্যাসিনো ও গ্যাম্বলিং সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, বিজ্ঞাপনে নারী ও পুরুষ বিভিন্ন পোশাকে উপস্থিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, ইউটিউব, ফেসবুক বা অ্যাডস থেকে আয় করা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে হালাল হবে নাকি হারাম?

নিবেদক

মুহা.আরিফুল ইসলাম

সাদেরডাঙ্গা, পোরশা।

بسم الله الرحمن الرحيم،حامدا ومصليا ومسلما-

সমাধান:

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে ইউটিউব, ফেসবুক, বা ব্লগ অ্যাডসের মাধ্যমে ইনকাম করা বৈধ হবে না। কেননা এক্ষেত্রে শরীয়ত পরিপন্থী অনেক নাজায়েয কাজের সমন্নয় ঘটে, যা থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

(এডস অন রিলস) মানে ফেসবুক পেজের সর্ট ভিডিওয়ের মনিটাইজ করে ইসলামিক সর্ট ভিডিও তৈরি করে ইনকামের ব্যাপারে বিধান হলো, হালাল বিজ্ঞাপন হলে ভিডিও আপলোড করা জায়েজ।  কিন্তু বেগানা নারীসহ হারাম বিষয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করে এমন মনিটাইজ করে টাকা ইনকাম করা জায়েজ নেই।

যেহেতু এসবে অহরহ হারাম বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, তাহলে সতর্কতামূলক উক্ত ইনকাম বর্জন করাই নিরাপদ।

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ٥:٢
সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।সূরা মায়েদা-২

فى معارف السنن- من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء (معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37

কখন ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হালাল হয়:

১. হালাল কনটেন্ট : ইনকাম হালাল হওয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে কনটেন্ট হালাল হওয়া। যেমন ইসলামি আলোচনা, শিক্ষামূলক ভিডিও, ভ্রমণ, রান্না, টিউটোরিয়াল, হস্তশিল্প ইত্যাদি হচ্ছে হালাল কনটেন্ট।

২. অশ্লীলতা/মিথ্যা/ধোঁকা মুক্ত : কনটেন্ট শুধু হালাম হলেই হবে না, লেখা বা ভিডিওতে অশ্লীল দৃশ্য, মিথ্যা তথ্য, গীবত, অপবাদ, সঙ্গীত (যদি হারাম ধরণের হয়) ইত্যাদি না থাকে।

৩. হারাম বিজ্ঞাপন বন্ধ: ইউটিউব সাধারণত নিজে থেকে বিজ্ঞাপন দেয়, যার মধ্যে হারাম জিনিস (মদ, জুয়া, অশ্লীলতা) থাকতে পারে। এসব এড়িয়ে চলা উচিত। ইউটিউব “Ad category blocking” অপশন দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কখন ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে আয় হারাম হতে পারে:

১.  শরীর প্রদর্শন, গানের ভিডিও, নাচ, অপসংস্কৃতি—এসবের মাধ্যমে আয় করলে তা হারাম হয়।

২. মিথ্যা সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে টাকা আয় করলে সেটা হবে জুলুম ও গুনাহ।

৩. হারাম পণ্যের প্রচার বা হারাম বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত টাকা হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

ফেসবুক অথবা ইউটিউব থেকে এডসেন্স এর মাধ্যমে ইনকাম করা যাবে কি-না? অনেকসময় অনলাইনে ব্রাউস করার সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অশ্লীল ছবি চোখে পড়ে এক্ষণে করণীয় কী?

উত্তর : 

এডসেন্স হলো গুগল কর্তৃক পরিচালিত একটি সিস্টেম। যেখানে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন রকম ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন আপলোড করে থাকে। এরপর যত মানুষ তা দেখে থাকে সে অনুযায়ী তার একাউন্টে ডলার যুক্ত হয়। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি যদিও শরীয়া সম্মত বিজ্ঞাপন আপলোড করতে চাই তবুও তার সামনে বিভিন্ন রকম খারাপ ছবি চলে আসে বিধায় তার কর্তব্য হবে এমন কাজ করা হতে বিরত থাকা। কারণ এর মাধ্যমে তার চোখের যেনা হয়ে থাকে।

রাসূলের বাণী, ‘চোখ যেনা করে থাকে আর তার যেনা হলো দৃষ্টি দেওয়া, মুখ যেনা করে থাকে আর তার যেনা হলো কথা বলা, হাত যেনা করে থাকে আর তার যেনা হলো স্পর্শ করা, পা যেনা করে থাকে আর তার যেনা হলো চলা এবং লজ্জাস্থান তা সত্যায়ন করে বা মিথ্যায় পরিণত করে’ছহীহ বুখারী, হা/৬২৪৩; মিশকাত, হা/৮৬

অনুরূপভাবে আল্লাহ সৎ আমল করার জন্য বলেছেন। আল্লাহর বাণী, ‘হে রাসূলগণ ! তোমরা পবিত্র জিনিস হতে খাও এবং সৎ আমল কর’ (আল-মুমিনূন, ২৩/৫১)।

ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে উপার্জিত অর্থ তখনই হালাল হবে, যদি আপনার কন্টেন্ট হালাল ও উপকারী হয় এবং সেই সাথে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্জিত আয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ উপায়ে আসে। আয় হালাল হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত নিচে দেওয়া হলো:

  • কন্টেন্টের বিষয়বস্তু: ভিডিও, অডিও বা আর্টিকেলে কোনো অশ্লীলতা, মিথ্যা, প্রতারণা, গান-বাজনা, সুদ বা হারাম কোনো বিষয়ের প্রচার না থাকা।
  • বিজ্ঞাপনের ধরন: গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense) বা ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিওতে যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয়, তা যেন ইসলামে নিষিদ্ধ বা হারাম পণ্যের (যেমন: জুয়া, মদ, সুদভিত্তিক ব্যাংক, অশ্লীল পণ্য) না হয়।
  • দ্বীনি বিষয়াবলি: ইসলামিক বা শিক্ষণীয় কন্টেন্ট হতে হবে এবং তা থেকে অর্জিত অর্থ হালাল।

ওলামায়ে কেরাম এব্যাপারে মতৈক্য হয়েছেন যে, ইউটিউবে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে কৃত উপার্জন হালাল হতে পারে এই শর্তে যে, প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন যেন হারাম থেকে মুক্ত হয়। অর্থাৎ মিউজিক, নারীদেহের প্রদর্শন, সূদ, মদ, যেকোনো হারাম, অশ্লীল অথবা মন্দের দিকে উদ্বুদ্ধকারী বিজ্ঞাপন না হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কোনো চ্যানেল মালিকের স্বাধীনতা থাকে না। বরং ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছামতো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। ইসলামে হালাল ও হারাম স্পষ্ট।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’বুখারী, হা/৫২; মুসলিম, হা/৩৯৮৬

তাই এর ইনকাম থেকে বিরত থাকতে হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র ও নিকৃষ্ট কখনো সমান হতে পারে না- যদি নিকৃষ্টের আধিক্য তোমাকে আকৃষ্ট করে। অতএব হে বিবেকবান লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে’আল মায়েদা, ৫/১০০

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী আজ মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়; বরং এগুলো এখন শিক্ষা, দাওয়াত, ব্যবসা ও উপার্জনের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অসংখ্য মানুষ আজ এসব প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে অর্থ উপার্জন করছে। কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই আয় কি হালাল? এর সীমারেখা কোথায়? কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে কল্যাণের মাধ্যম বানানো যায়?

সোশ্যাল মিডিয়া : এক বিশাল সুযোগ

সোশ্যাল মিডিয়া নিজে হারাম নয়। এটি একটি মাধ্যম। এই মাধ্যমকে ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায়, আবার গুনাহের কাজেও ব্যবহার করা যায়। একজন ব্যক্তি যদি ইসলামি শিক্ষা, উপকারী জ্ঞান, শিক্ষামূলক ভিডিও, সমাজসচেতনতা, দক্ষতা উন্নয়ন বা বৈধ ব্যবসার প্রচারের জন্য ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার করেন, তাহলে তা উপকারী ও সওয়াবের কাজও হতে পারে।

আজ অনেক মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে—

  • কুরআন শিক্ষা দিচ্ছেন,
  • ইসলামি আলোচনা প্রচার করছেন,
  • শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন,
  • ফ্রিল্যান্সিং ও ব্যবসা করছেন,
  • মানুষের উপকারে আসছে এমন তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এসব নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।

ইনকাম হালাল হওয়ার মূলনীতি

ইসলামে উপার্জনের মূলনীতি হলো—উপার্জনের মাধ্যম ও পদ্ধতি উভয়ই বৈধ হতে হবে। শুধু টাকা আসলেই তা হালাল হয়ে যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“হে মানুষ! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর।”— সূরা বাকারা : ১৬৮

অতএব সোশ্যাল মিডিয়ার আয় হালাল হবে তখনই, যখন—

  • কনটেন্ট বৈধ হবে,
  • মিথ্যা, অশ্লীলতা ও প্রতারণা থাকবে না,
  • হারাম বিষয়ের প্রচার করা হবে না,
  • মানুষের ক্ষতি বা গুনাহের কারণ হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার বড় সংকট

১. ভিউ ও জনপ্রিয়তার নেশা

অনেকেই উপকারী কনটেন্ট দিয়ে শুরু করলেও পরে ভিউ, লাইক ও ফলোয়ার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় পড়ে যায়। তখন তারা ধীরে ধীরে অশ্লীলতা, নাটকীয়তা, মিথ্যা শিরোনাম ও বিভ্রান্তিকর বিষয় ব্যবহার শুরু করে।

২. নারীর অবাধ প্রদর্শন

বর্তমানে বহু ভিডিও ও শর্ট কনটেন্টে নারীর সৌন্দর্য প্রদর্শন, গান-বাজনা ও বেপর্দা পরিবেশকে ব্যবহার করা হয় দর্শক টানার জন্য। এর মাধ্যমে লাখো মানুষের গুনাহের কারণ হওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।

৩. মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য

ক্লিকবেইট, গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও অতিরঞ্জন আজ সোশ্যাল মিডিয়ার বড় সমস্যা। ইসলাম মিথ্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই প্রচার করে।”
— সহীহ মুসলিম

৪. গান-বাজনা ও হারাম উপাদান

অনেক কনটেন্টে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, অশ্লীল দৃশ্য বা হারাম উপাদান যুক্ত থাকে, যা আয়কে সন্দেহপূর্ণ করে তোলে।

৫. সময়ের অপচয় ও গাফলতি

সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত ডুবে থাকার ফলে নামায, কুরআন, পরিবার ও বাস্তব দায়িত্ব থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে।

ইউটিউব ও ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের আয় : একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

অনেক সময় ভিডিওর আগে বা মাঝে এমন বিজ্ঞাপন আসে, যাতে সুদভিত্তিক ব্যাংক, জুয়া, বেপর্দা দৃশ্য বা হারাম পণ্যের প্রচার থাকে। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। একজন মুসলিমের উচিত যথাসম্ভব হারাম বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলা এবং নিজের কনটেন্টকে পবিত্র রাখা।

যদি কনটেন্ট বৈধ হয় এবং উপার্জনের মধ্যে সরাসরি হারাম কাজ না থাকে, তাহলে অনেক আলেম শর্তসাপেক্ষে এ আয়কে বৈধ বলেছেন। তবে যেখানে স্পষ্ট হারাম উপাদান থাকে, তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

একজন মুসলিম কনটেন্ট ক্রিয়েটরের করণীয়

১. নিয়ত ঠিক করা

শুধু খ্যাতি বা অর্থ নয়; মানুষের উপকার ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে উদ্দেশ্য করা।

২. হালাল কনটেন্ট তৈরি করা

ইসলামবিরোধী, অশ্লীল বা বিভ্রান্তিকর কিছু থেকে দূরে থাকা।

৩. সত্যবাদী হওয়া

ভিউ বাড়ানোর জন্য মিথ্যা শিরোনাম বা নাটকীয় প্রতারণা না করা।

৪. গান-বাজনা ও হারাম দৃশ্য এড়িয়ে চলা

কনটেন্টকে যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন রাখা।

৫. সময়ের ভারসাম্য রাখা

সোশ্যাল মিডিয়া যেন ইবাদত, পরিবার ও বাস্তব জীবনকে গ্রাস না করে।

সোশ্যাল মিডিয়াকে দাওয়াতের মাধ্যম বানাতে হবে

আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে আছে। তাই একজন মুসলিম চাইলে এই মাধ্যমকে দাওয়াত, শিক্ষা ও কল্যাণের শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত করতে পারে। একটি উপকারী ভিডিও, একটি হেদায়াতপূর্ণ বক্তব্য বা একটি ভালো পোস্ট বহু মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“তোমাদের মাধ্যমে যদি একজন মানুষও হেদায়াত পায়, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।”
— সহীহ বুখারী

উপসংহার

সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে যেমন উপার্জনের সুযোগ, অন্যদিকে বড় ফিতনাও বটে। তাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো—প্রতিটি ক্লিক, ভিডিও ও উপার্জনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা। মনে রাখতে হবে, শুধু “ভাইরাল” হওয়া সফলতা নয়; বরং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই প্রকৃত সফলতা।

হালাল উপার্জনে হয়তো কষ্ট আছে, কিন্তু তাতেই বরকত আছে। আর হারাম পথে যত অর্থই আসুক, তা কখনো প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হালাল রিজিক অর্জনের তাওফীক দান করুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

১. প্রশ্ন: মুহতারাম! আজকাল দেখা যায় অনেকে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অর্থ-উপার্জন করে। আর তা এভাবে যে, কারো ভিডিও এর যদি ভিউআর (Viewer) বেশি হয় তখন ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তার সাথে চুক্তি করে তার ভিডিওগুলোর সাথে বিভিন্ন কোম্পানির এ্যাড যুক্ত করে দেয় এবং এর বিনিময়ে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয়। জানার বিষয় হচ্ছে, এভাবে অর্থ-উপার্জন করা বৈধ হবে কি না?

উত্তর

নিজের তৈরিকৃত ভিডিও-এর সাথে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন যুক্ত করার বিনিময়ে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি নিরাপদ নয়। কারণ ইউটিউব কখন কোন্ ধরনের এবং কোন্ কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেবে তাতে ভিডিওদাতার এখতিয়ার থাকে না বরং এসব কিছু ইউটিউব নিয়ন্ত্রণ করে। সে তার ইচ্ছা মত যে কোনো বিজ্ঞাপন দিতে পারে। অথচ বাছ-বিচার ছাড়া যে কোনো বিজ্ঞাপন যুক্ত করেই অর্থ-উপার্জন বৈধ নয়। বরং অর্থ-উপার্জন বৈধ হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে কিছু শর্তাবলীর উপর। যার কয়েকটি নিম্নরূপ :

১. যে বিষয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে সেটি বৈধ হওয়া।

২. বিজ্ঞাপনের চিত্র শরীয়ত পরিপন্থী না হওয়া।

৩. বিজ্ঞাপন ও এর ভাষা এবং উপস্থাপনের মধ্যে কোনো ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণার আশ্রয় না নেয়া ইত্যাদি।

আর সাধারণত যেহেতু এসব শর্তাবলী রক্ষা করা ভিডিওদাতার পক্ষে সম্ভব হয় না, তাই এ ধরনের উপার্জন থেকে বিরত থাকা উচিত।

২. প্রশ্ন : গুগল থেকে ইনকাম করলে তার বিধান কি?

আমাদের জানা মতে ইউটিউবের মাধ্যমে যে টাকা আয় করা হয় তার সোর্স হলো, গুগলের একটি বিশেষ সার্ভিস–গুগল এডসেন্স। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন অর্থের বিনিময়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সম্প্রচার করে। আর সেখান থেকে নির্ধারিত একটা অংশ ইউটিউবারদের দিয়ে থাকে।

সুতরাং বিজ্ঞাপনগুলো যদি অশ্লীল ও হারাম পণ্যের হয় তাহলে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ হালাল হবে না। বরং, হারাম অর্থ হওয়ার পাশাপাশি হারামের প্রচার ও সহযোগিতা করার গুনাহ হবে। এক্ষেত্রে আপনার কন্টেন্ট ইসলামিক এবং জায়েজ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর মাঝে থাকা অ্যাডের কারণে তার মাধ্যমে হারামও প্রচার পাচ্ছে।

মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الَّذِيْنَ يُحِبُّوْنَ أَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ-

‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’। (নূর ১৯)

নোমান ইবনে বশির রাযি থেকে বর্ণিত

ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﻠَﺎﻝَ ﺑَﻴِّﻦٌ ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡَ ﺑَﻴِّﻦٌ، ﻭَﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ ﻣُﺸْﺘَﺒِﻬَﺎﺕٌ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻬُﻦَّ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ، ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺗَّﻘَﻰ ﺍﻟﺸُّﺒُﻬَﺎﺕِ ﺍﺳْﺘَﺒْﺮَﺃَ ﻟِﺪِﻳﻨِﻪِ ، ﻭَﻋِﺮْﺿِﻪِ ، ﻭَﻣَﻦْ ﻭَﻗَﻊَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸُّﺒُﻬَﺎﺕِ ﻭَﻗَﻊَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ، ﻛَﺎﻟﺮَّﺍﻋِﻲ ﻳَﺮْﻋَﻰ ﺣَﻮْﻝَ ﺍﻟْﺤِﻤَﻰ ، ﻳُﻮﺷِﻚُ ﺃَﻥْ ﻳَﺮْﺗَﻊَ ﻓِﻴﻪِ ، ﺃَﻟَﺎ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻜُﻞِّ ﻣَﻠِﻚٍ ﺣِﻤًﻰ ، ﺃَﻟَﺎ ﻭَﺇِﻥَّ ﺣِﻤَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻣَﺤَﺎﺭِﻣُﻪُ

নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে সে পশু তার ভেতরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক রাজারই সংরক্ষিত এলাকা থাকে, সাবধান আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার হারামকৃত বিষয়গুলো। জেনে, রেখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত দেহই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো, তা হলো ‘কালব’ হৃদয়।সহীহ মুসলিম-১৫৯৯
  • সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমাদের কাছে নিরাপদ মনে হচ্ছে এহেন ইনকাম থেকে বেঁচে থাকা। আর উপার্জন যদি সম্পূর্ণ হালাল না হয় তাহলে তা সদকা করেও কোনো সাওয়াব পাওয়া যাবে না। তাই মনিটাইজেশন অফ রাখাই বাঞ্চণীয়।

৩. ইউটিউব, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করা কি মূলত বৈধ?

উত্তর: হ্যাঁ, যদি আয়টি বৈধ ও শরিয়তসম্মত কনটেন্ট, সেবা বা প্রচারের মাধ্যমে হয় এবং তাতে হারাম কোনো উপাদান না থাকে, তাহলে তা বৈধ হতে পারে।

৪. কোন ধরনের কনটেন্ট থেকে আয় করা হালাল?

উত্তর: ইসলামি আলোচনা, কুরআন শিক্ষা, শিক্ষামূলক ভিডিও, প্রযুক্তি শিক্ষা, রান্না, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ভ্রমণ, ব্যবসায়িক পরামর্শ, হস্তশিল্প ও উপকারী জ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট থেকে আয় করা বৈধ।

৫. শুধু বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করা কি জায়েয?

উত্তর: না। মিথ্যা, প্রতারণা ও ধোঁকা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই ভিউ বাড়ানোর জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করা গুনাহ।

৬. গানের ভিডিও বা নাচের ভিডিও থেকে আয় করা কি বৈধ?

উত্তর: যারা গান-বাজনা ও অশ্লীল বিনোদনকে হারাম মনে করেন, তাদের মতে এসব কনটেন্টের মাধ্যমে অর্জিত আয়ও হারাম বা অন্তত সন্দেহযুক্ত।

৭. অশ্লীলতা বা শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে আয় করলে তার বিধান কী?

উত্তর: এটি শরিয়তসম্মত নয়। অশ্লীলতা প্রচার নিজেই গুনাহ, আর এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও অবৈধ বলে গণ্য হবে।

৮. মিথ্যা সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে আয় করলে কী হবে?

উত্তর: এটি হারাম। কারণ এতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, অপবাদ দেওয়া বা সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করা হয়।

৯. হারাম পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আয় করা কি বৈধ?

উত্তর: না। মদ, জুয়া, সুদভিত্তিক সেবা, অশ্লীলতা বা অন্য কোনো হারাম বিষয়ের প্রচার করে আয় করা বৈধ নয়।

১০. ইউটিউবের বিজ্ঞাপনে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম বিজ্ঞাপন চলে এলে কী করণীয়?

উত্তর: কনটেন্ট নির্মাতার উচিত যতটুকু সম্ভব বিজ্ঞাপন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং হারাম ক্যাটাগরির বিজ্ঞাপন ব্লক করার চেষ্টা করা। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং যথাসম্ভব সতর্ক থাকবে।

১১. ইসলামি দাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষা প্রচার করে আয় করা কি বৈধ?

উত্তর: যদি তা সত্যনিষ্ঠ, শরিয়তসম্মত ও বৈধ উপায়ে হয়, তাহলে সেই আয় বৈধ বলে গণ্য হবে।

১২. আয় হালাল হওয়ার মূলনীতি কী?

উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে আয় হালাল হওয়ার জন্য তিনটি বিষয় জরুরি—

১. কাজ বা কনটেন্ট বৈধ হতে হবে।

২. উপার্জনের পদ্ধতি বৈধ হতে হবে।

৩. আয়ের উৎস ও প্রচারিত বিষয় হারামমুক্ত হতে হবে।

What's your reaction?