প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর এ সকল যিকিরসমূহ পড়ার মাঝে বহু উপকার রয়েছে:
১। ৫০০ সাদকাহ লিপিবদ্ধ করা হয়
একজন মুসলমান যখন প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর এ সকল যিকিরসমূহ পড়ে তখন তার আমলনামায় ৫০০ সাদকাহ লিপিবদ্ধ করা হয়। ইমাম নববী রহ. বলেন, একজন মুসলমান এ সকল যিকির পাঠের মাধ্যমে একজন দানকারীর ন্যায় প্রভূত সাওয়াব লাভ করে ।
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে: عن أبي ذَرٍ، عَنِ النَّبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ قَالَ: يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ، فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلٌّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ ..
“হযরত আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, প্রভাতের সালাত তোমাদের প্রত্যেক অঙ্গসমূহের সাদকা, প্রত্যেক তাসবীহ সাদকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল সাদকাহ এবং প্রত্যেক তাকবীর সাদকাহ।'(মুসলিম শরীফ,, হাদীস নং: ৭২০।)
২। ৫০০টি গাছ লাগানোর সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়
একজন মুসলমান যদি দিন-রাত এ সকল যিকির করে তাহলে তার আমলনামায় ৫০০টি গাছ লাগানোর সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় ।
৩। জান্নাতে প্রবেশের কোনো বাধা থাকবে না
যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তার জান্নাতে প্রবেশের পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।
৪। পাপসমূহ মুছে দেয়া হবে
যে ব্যক্তি এ সকল যিকির নিয়মিত পড়বে তার পাপসমূহ মুছে দেয়া হবে, সে এমন পবিত্র হবে যেন সে সমুদ্র থেকে গোসল করে এসেছে। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَحَمِدَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، فَتْلِكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ، وَقَالَ: تَمَامَ الْمِائَةِ :
“হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার পড়বে (সুবহানাল্লাহ) “মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি”, ৩৩ বার পড়বে (আলহামদুলিল্লাহ) “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য” এবং ৩৩ বার পড়বে (আল্লাহু আকবার) “আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ” এ হলো ৯৯ বার এবং একশবার পূর্ণ করার জন্য বলবে: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু ওহুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদীর) “আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান । ”
غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ .
তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সাগরের ফেনার সমান হয় ৷ (”মুসলিম শরীফ,, হাদীস নং: ৫৯৭।)
৫। দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে না
যে ব্যক্তি এ সকল যিকিরসমূহ নিয়মিত পড়বে সে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে না। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে: عَنْ كَعْب بن عُجْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مُعَقِّبَاتٌ لَا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ أَوْ فَاعِلُهُنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ .مَكْتُوبَةٍ، ثَلَاثُ وَثَلَاثُونَ تَسْبِيحَةً، وَثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ تَحْمِيدَةً، وَأَرْبَعُ وَثَلَاثُونَ تَكْبيرة
“হযরত কাব বিন ওযরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন, প্রত্যেক ফরজ সালাতের শেষে ৩৩ বার (সুবহানাল্লাহ) “মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি”, ৩৩ বার (আলহামদু লিল্লাহ) “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য” এবং ৩৪ বার (আল্লাহু আকবার)“আল্লাহ অতি বড়” পাঠকারীর জন্য কোনো ভয় নেই (পরকালীন আযাবের)।
৬। এর মাধ্যমে বান্দার ফরজ নামাযের ভুল-ত্রুটি দূর হয়
তথ্য সূত্রঃ
বই: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ১০০০ সুন্নাত
লেখক: শাইখ খালীল আল হোসেনান
অনুবাদক: মাওলানা ডক্টর শাহ্ মুহাম্মাদ আবদুর রাহীম



সোশ্যাল কমেন্ট এখনো চালু হয়নি — পাশের “সাইট কমেন্ট” ট্যাবে মতামত দিন।