ইবাদতসকল পোষ্ট

মুমিন হওয়ার শর্ত কী? গুণাবলী ও বাস্তব প্রয়োগ

মুমিন (مؤمن) অর্থ হলো সত্যিকারের বিশ্বাসী। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণ করাই মুমিন হওয়ার চূড়ান্ত পরিচয় নয়; বরং কুরআন, হাদিস এবং প্রসিদ্ধ ইসলামী গ্রন্থসমূহে মুমিনের পরিচয় আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুমিন তিনি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং তাঁর জীবন আল্লাহর বিধান ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।


১. কুরআনের আলোকে মুমিনের পরিচয়

১. আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি নিঃশর্ত বিশ্বাস: إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا۟..

“মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর সন্দেহ পোষণ করেনি…”(সুরা আল-হুজরাত: ১৫)

২. আল্লাহর ভয়ে হৃদয় কম্পিত হয়: إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ…

“নিশ্চয়ই মুমিন তারা, যাদের সামনে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হলে তাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে ওঠে।”(সুরা আল-আনফাল: ২)

৩. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা রাখে: وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

“এবং তারা তাদের রবের উপর ভরসা করে।” (সুরা আল-আনফাল: ২)

২. হাদিসের আলোকে মুমিনের পরিচয়

১. মুমিন অন্য মুসলমানের জন্য নিরাপদ: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিন হলো সে, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” ****(সহিহ বুখারি: ১০)

২. সত্যিকারের মুমিন পরোপকারী ও দয়ালু: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তা-ই তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য ভালোবাসে।” ****(সহিহ বুখারি: ১৩)

৩. মুমিন ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিনের অবস্থা আশ্চর্যজনক! তার জন্য সবকিছু কল্যাণকর। সুখ পেলে কৃতজ্ঞ হয়, কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করে।” (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

৩. প্রসিদ্ধ ইসলামী গ্রন্থসমূহের আলোকে মুমিনের পরিচয়

ইমাম গাজালি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ইহইয়া উলুমিদ্দিন-এ মুমিনের পরিচয় সম্পর্কে বলেন— মুমিন হল সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা গভীরভাবে প্রোথিত থাকে। সে তার প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাধান্য দেয়। তার হৃদয় দুনিয়ার লোভ থেকে মুক্ত এবং সে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর গ্রন্থ মাদারিজুস সালিকিন-এ মুমিনের পরিচয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন— মুমিন হল সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা করেন এবং সবকিছুতে আল্লাহর হুকুম মেনে চলেন। তার অন্তর শুদ্ধ হয়, এবং সে সবসময় তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। সে নিজের ঈমানকে ক্রমাগত পরিশুদ্ধ করতে চেষ্টা করে এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকার জন্য সচেতন থাকে।

ইমাম আবু লাইলা (রহ.) বলেন— একজন প্রকৃত মুমিন দুনিয়ার জীবনের বিপরীতে আখিরাতের সুখকে অগ্রাধিকার দেন। তার চলাফেরা, আচার-ব্যবহার, কথা-বার্তায় নম্রতা ও সততা প্রতিফলিত হয়। সে গোপনে ও প্রকাশ্যে একরকম হয়ে থাকে; তার মধ্যে দ্বৈততা থাকে না।

জুন্নাইদ আল বাগদাদী (রহ.) তিনি বলেন, “মুমিন হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে এবং দুনিয়ার লোভ তাকে প্রভাবিত করতে পারে না।”

শেখ আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেন— তার জীবন সরল ও পরিশুদ্ধ হয়, এবং সে সর্বদা সত্যের উপর অবিচল থাকে। মুমিনের অন্তর সর্বদা আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। সে দুনিয়ার যেকোনো সমস্যায় আল্লাহর উপর নির্ভর করে।


মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া
ঈমান যাদের আছে, তাদের মুমিন বলে। যারা ইসলামে প্রবিষ্ট হয়েছেন, তাদের ইসলামের যাবতীয় বিষয়ে ঈমান রাখা অপরিহার্য। মুমিনের পরিচয় বর্ণনা করে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। অতঃপর তাতে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ করেনি।
আর তাদের জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই হলো সত্যনিষ্ঠ।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১৫)
সুরা মুমিনুনের শুরুতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুমিনের এমনই কিছু বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছ মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত।
যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। যারা জাকাত সম্পাদনকারী। যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে; নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সবার থেকে। কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না।
তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমা লঙ্ঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। এবং যারা নিজেদের নামাজের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। এরাই হলো সেই ওয়ারিশ, যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মিরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।
’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-১১)
উল্লিখিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা মুমিনের সাতটি গুণ-বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন :

প্রথম গুণ : যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত। প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, মুমিন নামাজে ‘খুশু’ অবলম্বন করে। নামাজ ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মুমিনের চক্ষু-শীতলতা। আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনেক বড় একটি মাধ্যম। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নামাজে রাখা হয়েছে আমার চোখের শীতলতা।’ (সুনানে নাসায়ী, হাদিস : ৩৯৪০)

দ্বিতীয় গুণ : যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। মুমিনের বিশেষ একটি গুণ হলো, সে অনর্থক কথা-বার্তা থেকে বেঁচে থাকে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সুন্দর মুসলিম হওয়ার একটি নিদর্শন হলো, অর্থহীন কাজ ত্যাগ করা।’ (তিরমিজি, হাদিস ২৩১৮)
অহেতুক বিষয় থেকে বেঁচে থাকার সর্বপ্রথম ক্ষেত্র হলো, সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা। তেমনি এমন কথা, কাজ, লেখা ও চিন্তা থেকে বেঁচে থাকা, যাতে না দ্বিনি কোনো ফায়দা আছে, না দুনিয়াবি কোনো ফায়দা আছে।

তৃতীয় গুণ : যারা জাকাত সম্পাদনকারী। তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, মুমিন জাকাত আদায় করে। জাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। হাদিসের ভাষায় ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। তাই ঈমানের অপরিহার্য দাবি, জাকাত ফরজ হলে তা আদায় করা। জাকাত আদায় না করার ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা সোনা-রুপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের যন্ত্রণাময় শাস্তির ‘সুসংবাদ’ দাও। যেদিন সে ধন-সম্পদ জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, তারপর তা দ্বারা তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে (এবং বলা হবে) এই হচ্ছে সেই সম্পদ, যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যে সম্পদ পুঞ্জীভূত করতে, তা মজা করে ভোগ করো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

চতুর্থ গুণ : যারা নিজ লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো, মুমিন তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। নিজের চাহিদা পূরণের জন্য সে কোনো অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে না। নিজের স্ত্রী ও শরিয়তসম্মত দাসী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে তার চাহিদা পূরণ করে না। এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত। এবং মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০-৩১)

পঞ্চম গুণ : এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে। এই আয়াতে মুমিনের দুটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে : এক. মুমিন আমানতের হেফাজত করে। আমানতের হেফাজত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় আমানত হেফাজতের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ করছেন যে তোমরা আমানত তার হকদারকে আদায় করে দেবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

ষষ্ঠ গুণ : অঙ্গীকার পূর্ণ করা। অঙ্গীকার বলতে প্রথমত, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বোঝায়, যা কোনো ব্যাপারে উভয় পক্ষ অপরিহার্য করে নেয়। এরূপ চুক্তি পূর্ণ করা ফরজ (বাধ্যতামূলক) এবং এর খেলাফ করা বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা তথা হারাম। দ্বিতীয় ধরনের অঙ্গীকারকে ওয়াদা বলা হয়। অর্থাৎ একতরফাভাবে একজন অন্যজনকে কিছু দেওয়ার অথবা অন্যজনের কোনো কাজ করে দেওয়ার ওয়াদা করা। ওয়াদা পূর্ণ করা ইসলামী আইনে জরুরি ও ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর অঙ্গীকার পূরণ করো। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)

সপ্তম গুণ : যারা নিজেদের নামাজের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। সপ্তম বৈশিষ্ট্য হলো, মুমিন নামাজের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। ‘নামাজের রক্ষণাবেক্ষণ করে’ কথাটা ব্যাপক। এর মধ্যে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত। যেমন—যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা, কখনো পড়বে কখনো পড়বে না—এমন নয়। সময়মতো জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া। সব শর্ত, আদব ও নিয়মাবলি রক্ষা করে সুন্দর ও সুচারুরূপে আদায় করা। (তাফসিরে কাবির ২৩/২৬৩)
আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব বৈশিষ্ট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন


তথ্যসূত্র:
https://www.kalerkantho.com/online/Islamic-lifestylie/2023/04/29/1275274


রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসে প্রকৃত মুমিনের বহু বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, যা একজন বিশ্বাসীর ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও নৈতিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। নিম্নে সহিহ ও হাসান হাদিস থেকে মুমিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে আমাকে তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।”(সহিহ বুখারি: ১৫, সহিহ মুসলিম: ৪৪)

২. আমানতদার ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিন হতে পারে না সে ব্যক্তি, যে আমানতের খেয়ানত করে।”(মুসনাদ আহমদ: ১২৫৭৪)
তিনি আরও বলেন, “যার মধ্যে আমানতদারিত্ব নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই।” (সুনান আন-নাসাঈ: ৪৬৬৭)

৩. সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “একজন মুমিন সব কিছু করতে পারে, কিন্তু কখনো মিথ্যা বলতে পারে না।”
(মুসনাদ আহমদ: ৯৪৪৫)
তিনি আরও বলেন, “তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা অধর্মের দিকে নিয়ে যায়, আর অধর্ম জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।” (সহিহ মুসলিম: ২৬০৭)

৪. উত্তম চরিত্র ও সদাচার
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যার চরিত্র সর্বোত্তম।” (সুনান আত-তিরমিজি: ১১৬২)
তিনি আরও বলেন, “মুমিন ব্যক্তি নম্র ও বিনয়ী হয়, যেমন খেজুর গাছের নরম শাখা বাতাসে নড়াচড়া করে কিন্তু ভেঙে পড়ে না।” (মুসনাদ আহমদ: ২১৪৫৭)

৫. ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিনের অবস্থা আশ্চর্যজনক! তার জন্য সবকিছু কল্যাণকর। সুখ পেলে কৃতজ্ঞ হয়, কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করে।” (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

৬. অন্য মুসলমানের জন্য কল্যাণকামী হওয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তা-ই তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য পছন্দ করে।” (সহিহ বুখারি: ১৩, সহিহ মুসলিম: ৪৫)
তিনি আরও বলেন, “মুমিনরা একে অপরের সাথে একটি দেহের মতো। যখন দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন সমস্ত দেহ তার জন্য অস্থির হয়।” (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৬)

৭. দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও আখিরাতমুখিতা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত ও পরকালের প্রতি আগ্রহী হয়, আল্লাহ তার অন্তরে স্বচ্ছলতা দান করেন এবং তার কাজকে সুবিন্যস্ত করে দেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়, আল্লাহ তার দারিদ্র্যকে সামনে রেখে দেন এবং তার কাজকে বিশৃঙ্খল করে দেন।”(সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৬৫)

৮. নম্রতা ও বিনয়ী আচরণ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে নম্র ও বিনয়ী করে দেন।”
(মুসনাদ আহমদ: ৭৩৫৭)
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

৯. হালাল জীবিকা অর্জন করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “একজন মুমিনের দেহে যে গোশত হারাম থেকে গঠিত হয়, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (মুসনাদ আহমদ: ১৪০৫৫)

১০. আত্মসমালোচনা ও তাওবা করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “সকল মানুষ ভুল করে, আর উত্তম ভুলকারী হল সেই ব্যক্তি, যে তওবা করে।”
(সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৯৯)

১১. অন্যদের থেকে নিরাপদ রাখা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মুমিন হলো সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।”
(সহিহ বুখারি: ১০)

১২. গীবত ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ প্রকাশ করে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন করবেন।” (সুনান ইবন মাজাহ: ২৫৪৬)

১৩. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয়, যে কুস্তিতে পরাজিত করতে পারে, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” (সহিহ বুখারি: ৬১১৪)

১৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন। আর যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার রহমত থেকে বঞ্চিত করেন।” (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৮)


এই ব্লগটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

খুশি
0
আরও উন্নত হতে পারে
0

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *