মাওলানা মওদুদী কতৃক লিখিত বই পুস্তক পড়া যাবে কিনা? জগতবিখ্যাত কয়েকজন আলেমের অভিমত

হক্কানী উলামায়েকিরাম প্রায় শুরু থেকেই মওদূদী সাবেও তাঁর চিন্তা ধারায় বিশ্বাসী জামাআতে ইসলামীকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বহির্ভূত একটি গোমরাহ দল হিসাবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এবং অন্যদেরকে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

নিম্নে জগতবিখ্যাত কয়েকজন আলেমের অভিমত উল্লেখ করা হল।

(ক) আকাবিরে দেওবন্দের সর্বসম্মত ফাতাওয়াঃ মওদুদী সাহেব ও জামাআত ইসলামীর বই-পত্র ও রচনাবলী পড়ার দ্বারা সাধারণ মানুষ আঈম্মায়ে হিদায়াতের সাথে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে, যা তাদের গোমরাহীর কারণ। তেমনি সাহাবায়ে কিরাম ও বুযুর্গানে দ্বীনের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধায়ও বাটা পড়ে। এছাড়া মওদূদী সাহেবের বহু গবেষণা সম্পূর্ণ ভুল। সার্বিক ভাবে মওদূদী সাহেব ও তাঁর দলের চিন্তাধারা একটি নতুন ফিৎনা, যা নিশ্চিত ক্ষতিকর। এ কারণে আমরা উক্ত চিন্তাধারা নির্ভর আন্দোলনকে গলদ ও মুসলিম উম্মাহর জন্যে ক্ষতিকর মনে করি। এ দলের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই।

দস্তখত কারীঃ হযরত মুফতী কিফায়াতুল্লাহ রঃ। হযরত হুসাইন আহমাদ মাদানী রঃ। হযরত কারী মুহাম্মাদ তৈয়্যেব রঃ (প্রিন্সিপ্যাল দারুল উলূম দেওবন্দ শাইখুল হাদীস হযরত যাকারিয়া রঃ হযরত মুফতী সাইদ আহমাদ মাঃ জিঃ মুফতীয়ে দেওবন্দ প্রমুখ। মাসিক দারুল উলূম যী-কাহাদ ১৩৭০ সংখ্যা। (দৈনিক আল জমিয়ত দিল্লী ৩রা আগষ্ট ১৯৫১ খৃঃ -সূত্রঃ মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত পৃঃ ১৯)

(খ) মুফতীয়ে আযম মুফতী মুহাম্মদ শফী রঃ এর ফাতওয়াঃ আমার মতে মওদূদী সাহেবের মৌলিক ভুল এই যে, তিনি আক্বাইদ ও আহকামের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইজতেহাদের অনুসরণ করেন, অথচ তাঁর মধ্যে মুজতাহিদ হওযার শর্তাবলী অনুপস্থিত। এই মৌলিক ভুলের কারণে তাঁর রচনাবলীতে বহু কথা ভুল ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিপন্থী (আরো একটু আগে গিয়ে বলেন) মওদূদী সাহেবের রচনাবলীই জামাআতে ইসলামীর চিন্তাচেতনার মূল পুঁজি। জামাআতের পক্ষ থেকে মওদূদী সাহেবের ভুল ভ্রান্তির সাধারণ পক্ষ পাতিত্ত্ব একথাই প্রমাণ করে যে, মওদূদী চিন্তাধারা ও রচনাবলীর সাথে তারা একমত। কেউ একমত না হলে তা নিতান্তাই ব্যতিক্রম। (জাওয়াহিরুল ফিকহ-১ম খ- পৃঃ ১৭২)

(গ) গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ হাদীস গ্রন্থ ই’লাউসসুনানের সংকলক ও ঢাকা আলিয়ার প্রাক্তন হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওঃ যাফর আহমাদ উছমানীর অভিমতঃ মওদূদী সাহেব বাহ্যত মুনকিরে হাদীস। ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত নয়, হবে গোমরাহ ও বেদআতী। এমন লোক হতে মুসলমানদের দূরে থাকা চাই। তাঁর কথায় মোটেও আস্থা না রাখা উচিত। এবং দ্বীন সম্পর্কে তাকে চরম মূর্খ মনে করা বাঞ্ছনীয়। (সূত্রঃ মওদূদী ছাহেব আওর উন্‌কী তাহরীরাত পৃঃ ২৫)

(ঘ) তাফসীরে হক্কানীর লেখক পেশোয়ার দারুল উলূম হক্কানীয়ার প্রতিষ্ঠাতা, শাইখুল হাদীস আব্দুল হক্ব রঃ এর অভিমতঃ মওদূদী সাহেবের আক্বাইদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিপন্থী ও বিভ্রান্তিমূলক, মুসলমানগণ যেন এই ফিৎনা হতে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করেন।

তথ্য সূত্র

মওদূদী সাহেব আওর উনকী তাহরীয়াত পৃঃ ২২ · এছাড়া জনাব মওদূদী সাহেবের উত্থানের একেবারে প্রথম পর্যায়ে তার লেখা তরজুমানের একটি সংখ্যা হযরত হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী তানভীর সামনে পেশ করা হলে মাত্র কয়েকটি লাইন পড়েই হযরত থানভী ইরশাদ করলেনঃ · باتوں کو نجاست میں ملاکر کہتاہے، اہل باطل کی باتیں ایسی ہی ہواکرتی ہیں ۔ · অর্থঃ এই লোকের বক্তব্যে নাপাকীর সংমিশ্রণ রয়েছে। বাতিল পন্থীদের কথা এমনই হয়ে থাকে। (তরজুমানুল ইসলাম লাহোর ৩০ শে ডিসেম্বর ১৯৫৭ খৃঃ) · তেমনিভাবে আশরাফুস্‌সাওয়ানেহ বাংলা অনুবাদ আশরাফ চরিত ৮৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে মাওঃ মঞ্জুর নো’মানী সাহেব জামাআতের সাথে নিজ সম্পৃক্ততার সময়ে হযরত থানভীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলে, হযরত বলেন আমার দিল এই আন্দোলনকে কবুল করে না। · মাত্র কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীনের অভিমত এখানে উল্লেখ করা হল, তাছাড়া উপমহাদেশের অতীত বর্তমানের সকল হক্কানী আলেম গণের সর্বসম্মত মত হল যে, মওদূদী সাহেবের চিন্তাধারা ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত জামাআতে ইসলামী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বহির্ভূত। এই হিসেবে শরীয়াতের দৃষ্টিতে তারা ফাসিক ও আকীদাগত ভাবে বিদ্‌আতী। · আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সিরাতে মুস্তাকীমের উপর কায়িম থাকার তাওফীক দান করুন, আমীন।

What's your reaction?