প্রশ্নোত্তর

ঈমান-আকীদার গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার ওপর প্রথম ফরজ ও প্রধান হক হলো, ঈমান আনা ও আকীদা পরিশুদ্ধ করা। তাই ইসলামের প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো ঈমান- আকীদা। যার ওপর নির্ভর করে নামাজ, রোযা, হজ ও যাকাতসহ শরীয়তের সকল আমলের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদান পাওয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষা। বিশাল দালান দাঁড়ানোর জন্য যেমন ফাউন্ডেশন আবশ্যক, তেমনই নেক আমল কবুল হওয়ার জন্য ঈমান প্রয়োজনীয়।

ঈমান-আকীদার দৃষ্টান্ত হলো ১, ২ সংখ্যার মতো, আর আমল হলো শূন্যের মতো। যদি ১, ২ সংখ্যা ছাড়া হাজারো শূন্য লেখা হয়, তাহলে দুনিয়াতে এর কোনো মূল্য নেই। অনুরূপ সঠিক ও বিশুদ্ধ ঈমান-আকীদা পোষণ না করে যদি হাজারো আমল করা হয়, তাহলে আখিরাতে এর কোনো মূল্য নেই।

এ জন্য বিভিন্ন আয়াতে কারীমায় আল্লাহ তাআলা আমলের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিদানের জন্য ঈমানকে পূর্বশর্ত বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে,

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثى وَهُوَ مُؤْ مِنْ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيوةٌ طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

‘পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ নেক আমল করবে, যদি সে ঈমানদার হয়,তাহলে আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের উৎকৃষ্ট কর্ম অনুযায়ী অবশ্যই প্রতিদান প্রদান করব।”সূরা নাহল, (১৬) : ১৭

এ আয়াতসহ আরও অনেক আয়াত থেকে সুস্পষ্ট হয়, নেক আমলের পূর্বশর্ত হলো ঈমান। তাই নিম্নোক্ত হাদীসেও সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নামাজ ইত্যাদি আমলের পূর্বে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো ঈমান আনা ও আকীদা ঠিক করা।

প্রথম ও প্রধান কাজ ঈমান আনা ও আকীদা ঠিক করা

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيِّ بَعَثَ مُعَاذًا له إِلَى اليَمَنِ، فَقَالَ: «ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ …». وفي رواية: «إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، فَلْيَكُنْ أَوَّل مَا تَدْعُوهُمْ إِلى أَنْ يُوجَدُوا اللهَ تَعَالَى».

‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনে জাবাল রাযি.-কে ইয়ামান অভিমুখে (শাসকরূপে) প্রেরণকালে বলেন, সেখানের অধিবাসীদের “আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল”- —এ কথার সাক্ষ্যদানের দাওয়াত দেবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়,তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ”সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৯৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘তুমি (মুআয রাযি.) আহলে কিতাবদের এক কওমের কাছে চলেছ। অতএব তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত হবে, তারা যেন তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করে নেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৭২

হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নামাজ ইত্যাদি আমলের পূর্বে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো, ঈমান আনা ও আকীদা ঠিক করা।

এভাবে কুরআনে কারীম সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وحِينَ الْبَأْسِ أُولَيكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَ أُولَيكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ

‘সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, তোমরা নিজেদের চেহারা পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে; বরং বড় সৎকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহ, কিয়ামত দিবস, সকল ফেরেশতা, কিতাব ও নবীগণের ওপর। আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, এতীম, মিসকীন, মুসাফির, ভিক্ষুক ও দাসমুক্তির জন্য। এবং যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূরণে যত্নবান থাকে, অর্থ-সংকটে দুঃখ-ক্লেশে ও যুদ্ধকালে ধৈর্যধারণ করে। এরাই তারা যারা সাচ্চা (নামে অভিহিত হওয়ার উপযুক্ত) এবং এরাই মুত্তাকী।”(সূরা বাকারা, 2: ১৭৭)

ইবনে উমর রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجَ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ.

‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি : ১. আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল—এ কথার সাক্ষ্যদান, ২. নামাজ কায়েম করা, ৩. যাকাত দেওয়া, ৪. হজ করা এবং ৫. রমজানে রোযা রাখা। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪।

আয়াত ও হাদীসের সুস্পষ্ট ভাষ্য হচ্ছে, নামাজ-রোযা, হজ-যাকাত প্রভৃতি আমলের পূর্বে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো, ঈমান আনা ও আকীদা ঠিক করা। এ কারণেই ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের প্রধান হচ্ছে, ঈমান-আকীদা ৷

এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম সবকিছুর আগে ঈমান-আকীদা শিখেছেন। হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. বলেন, كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِتْيَانٌ حَزَاوِرَةٌ، فَتَعَلَّمْنَا الْإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ تَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ تعلَّمْنَا الْقُرْآنَ، فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا.

‘আমরা কিশোররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে কুরআন শেখার আগে ঈমান (যা জানা জরুরি) শিখেছি। অতঃপর কুরআন (অর্থসহ) শিখেছি। তখন আমাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৬১, সনদ সহীহ।

তাবারানীর বর্ণনার শেষাংশে এসেছে, فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ تَعَلَّمُونَ الْقُرْآنَ قَبْلَ الْإِيمَانِ. ‘আজ তোমরা ঈমান শেখার আগে কুরআন শিখছ। (”আল-মু’জামুল কাবীর, তাবারানী, হাদীস নং ১৬৭৮; শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, হাদীস নং ৫০)

আফসোস, মুসলিম উম্মাহ আজ সবকিছু শিখছে, কেবল ঈমানটাই শিখছে না!

ঈমান-আকীদা ঠিক করা সর্বোত্তম আমল

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ سُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: إِيمَانُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ.

‘আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “কোন আমলটি উত্তম?” তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।”””

সুতরাং ঈমান-আকীদার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং হালাল-হারামের মাসআলা জানার আগে আকীদা জানা আবশ্যক।

ইমাম আবু হানীফা রাহ. বলেন, ‘দ্বীন ও আকীদা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বিধি-বিধান ও হালাল-হারামের জ্ঞান অর্জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর বিপুল পরিমাণ ইলম অর্জনের চেয়ে স্রেফ কীভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে, সেটুকু ইলম অর্জন করা বহু উত্তম।”

ইমাম আবু হানীফাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সর্বোত্তম ফিকহ (জ্ঞানশাস্ত্র) কোনটি? তিনি বললেন,‘ঈমান শেখা, শরীয়ত, সুন্নাত, হদ-কিসাস ও উম্মাহর ইমামদের মতামত ইত্যাদি জানা।”

ঈমান-আকীদার গুরুত্ব বোঝাতে এবং আমলের চেয়ে এর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করতে ইমাম আযম রাহ. একটি প্রায়োগিক উদাহরণ দিয়ে বলেন,

‘জেনে রাখো, শরীরের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন চোখের অনুকরণ করে, একইভাবে আমলও ইলমের অনুসরণ করে। কাজেই অজ্ঞতা নিয়ে অনেক আমলের পরিবর্তে ইলমের সাথে সামান্য আমলও অধিক উপকারী। এর উদাহরণ হলো, পথ চিনে স্বল্প পাথেয় নিয়ে মরুভূমিতে সফর করার উপকারিতা, পথ না চিনে প্রচুর পাথেয় ও রসদ নিয়ে সফর করার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণেই ইরশাদ হয়েছে, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না।

আল্লামা আবু ইসহাক সাফফার বুখারী রাহ. (মৃ. ৫৩৪ হি.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান।… আকীদা ও দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান হলো সকল জ্ঞানের আধার ও ভান্ডার, দ্বীন-দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি এই ইলম থেকে বঞ্চিত হলো, সে অন্য শাখাগত সব ইলম থেকেই বঞ্চিত। কারণ, মৌলিকের ইলম ছাড়া শাখা-প্রশাখার ইলম হতে পারে না। ইবনে উমর রাযি. বলেন, “আমরা কুরআন শেখার আগে তাওহীদ শিখতাম। আর তোমরা এখন আগে কুরআন শেখো, এরপর তাওহীদ শেখো।”

তাফসীরবিদদের মতে কুরআনের আয়াত সংখ্যা ছয় হাজার দুইশ ছত্রিশটি। এর মাঝে আহকাম তথা হালাল-হারাম সম্পর্কিত আয়াত পাঁচশর বেশি। বাকি সবগুলো তাওহীদ, শিক্ষণীয় ঘটনা, কাফেরদের বিরুদ্ধে নবী-রাসূলদের ঈমানী সংগ্রাম ও মুনাযারা-বিতর্ক ঘিরে। এর দ্বারা বোঝা যায়, তাওহীদের ইলমই সর্বোত্তম ইলম। তা ছাড়া নিজের দ্বীন রক্ষা ও বিভ্রান্তি-বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্যও এই ইলম অর্জন করা আবশ্যক।’ ” তাই ঈমান-আকীদার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং শৈশব থেকেই এর শিক্ষাদান শুরু করতে হবে।

ইমাম গাযালী রাহ. ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’ কিতাবে এবং ইবনে খালদুন রাহ. (মৃ. ৮০৮ হি.) তাঁর ‘মুকাদ্দিমা’-তে বাচ্চাদের আকীদা ও কুরআন শেখানোর গুরুত্ব নিয়ে সুন্দর আলোচনা করেছেন। আর আজ থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে ইমাম ইবনে আবী যায়দ কাইরাওয়ানী মালেকী রাহ. (মৃ. ৩৮৬ হি.) ‘আর-রিসালা’ কিতাবের শুরুতে বাচ্চাদের শেখানোর জন্য আকীদা লিখে গিয়েছেন।

ইমাম গাযালী রাহ. (মৃ. ৫০৫ হি.) বলেন, ‘আকীদা-সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি (প্রথম পরিচ্ছেদে), তা বাচ্চাদের শুরুতেই শিখিয়ে দেওয়া উচিত; যাতে সে এগুলো মুখস্থ করে নেয়। অতঃপর সে বড় হলে এগুলোর অর্থ একটু একটু করে বুঝবে। কাজেই প্রথমে মুখস্থ করবে, এরপর বুঝবে, অতঃপর বিশ্বাস ও সত্যায়ন করবে। কেননা, বাচ্চাদের কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস অর্জিত হয়।

মানুষের হৃদয়ের ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হলো, তিনি শৈশবেই কোনো দলীল-প্রমাণ ছাড়াই বক্ষকে ঈমানের জন্য উন্মোচিত করে দিয়েছেন।

আর এ কথা অনস্বীকার্য যে, সাধারণ মানুষের আকীদা-শিক্ষার সূচনা হয় শোনা ও অনুসরণের মাধ্যমে। তবে যে আকীদা এভাবে অর্জিত হয়, তাতে দুর্বলতা থাকে। তাই কেউ যদি উক্ত আকীদার পরিপন্থী কিছু তার অন্তরে ঢেলে দেয়, তাহলে পূর্বের আকীদা দূর হয়ে যায়। এ জন্য বাচ্চা ও সাধারণ মানুষের অন্তরে আকীদাসমূহ ভালো করে গেঁথে দিতে হবে, যেন এগুলো দৃঢ়ভাবে বসে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মজবুত ও দৃঢ়ভাবে গেঁথে দেওয়ার অর্থ এ নয় যে, তাকে কালাম ও তর্কবিদ্যা শিক্ষা দিতে হবে; বরং এর পদ্ধতি হলো, তাকে কুরআন তিলাওয়াত, তাফসীর ও হাদীস পড়া এবং এর মর্মার্থ বোঝার মাঝে ব্যস্ত রাখতে হবে। ইবাদত ও ওযীফা আদায়ে মশগুল রাখা। ফলে তার আকীদা-বিশ্বাস প্রতিনিয়ত দৃঢ় হতে থাকবে। কারণ, কুরআনে কারীমের প্রমাণসমূহ তার কানে পৌঁছাবে এবং এ সম্পর্কে হাদীসসমূহে প্রমাণ ও উপকারিতা দেখবে, ইবাদতের নূরে নূরান্বিত হবে এবং আল্লাহওয়ালাদের মজলিসে গমন ও তাঁদের সঙ্গে ওঠাবসার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আল্লাহ তাআলার সামনে তাঁদের খুশু-খুযু, ভয় ও প্রশান্তি প্রত্যক্ষ করবে।

অতএব শৈশবে আকীদা শিক্ষাদান হলো অন্তরে বীজ বপনের ন্যায়। আর আলোচ্য বিষয়গুলো হলো পানি সিঞ্চন ও পরিচর্যার মতো। একপর্যায়ে বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং বৃক্ষ তরতর করে বাড়তে থাকে। এমন উৎকৃষ্ট ও মজবুত বৃক্ষে পরিণত হয় যে, এর শিকড় থাকে অনেক গভীরে এবং কাণ্ড পৌঁছে যায় আকাশে।’ কিছুদূর এগিয়ে বলেন,‘বাচ্চা (সঠিক) আকীদা-বিশ্বাসের ওপর বেড়ে ওঠার পর সে দুনিয়াদারীতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ভিন্ন আকীদায় প্রভাবিত হবে না এবং আহলে হকের আকীদার কারণে আখিরাতে নিরাপদ থাকবে।

তথ্য সূত্রঃ

কিতাবঃ ঈমান – আকিদা ১

লেখকঃ মাওলানা সাঈদ আহমদ উস্তাদঃ দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

এই ব্লগটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

খুশি
0
আরও উন্নত হতে পারে
0

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *