ইসলাম

শাতেমে রাসূল তথা আল্লাহ ও রাসূলের অবমাননা ও কটূক্তিকারীর বিধান

ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. (মৃ. ২৩৮ হি.) বলেন,‘কেউ যদি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসূলকে গালিগালাজ করে, অথবা আল্লাহর নাযিলকৃত কোনো বিষয় প্রত্যাখ্যান করে, কিংবা কোনো নবীকে হত্যা করে, তাহলে সে মুসলমানদের নিকট সর্বসম্মতভাবে কাফের। যদিও সে আল্লাহর নাযিলকৃত প্রতিটি বিষয়ের স্বীকারোক্তি প্রদান করে।’

শাতেমে রাসূলের বিধান

একটি বিষয় এমন, যেখানে সকল আবেগ ও শ্রদ্ধা নিহিত এবং নিজের জান-প্রাণ সবই নিবেদিত। তাই সেখানে আঘাত পেলে কোনো মলম কাজ করে না। সেখানে সহনশীলতা দেখানো যায় না, ছাড় দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি হলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মান ও মর্যাদা এবং ইজ্জত ও সম্মান।

রাসূলকে গালিগালাজ করা, অবমাননা করা বা তাঁর সম্মান খাটো করা মুরতাদ হওয়ার চেয়েও মারাত্মক ও জঘন্য। কেননা, মুরতাদ মানে কাফের হয়ে যাওয়া, যা কেবল ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিপরীতে রাসূলকে গালিগালাজ করা কাফের হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এখানে দুই অপরাধ : কুফর ও কষ্টদান। কাজেই এটা মুরতাদের চেয়ে অনেক বেশি জঘন্য।

তাই তো ইসলামের প্রায় দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে শত শত জানের নজরানা পেশ করা হয়েছে, সবই বিসর্জন দেওয়া হয়েছে ও কুরবান করা হয়েছে। এরপরও নবীজীর অবমাননা বরদাশত করা হয়নি এবং তাঁর সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করা হয়নি।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কা’ব বিন আশরাফের ব্যাপারটা কে দেখবে? কারণ, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাযি. দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি? রাসূল বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তারা (ইহুদী) কা’বকেসহত্যা করে ফেলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তা জানালেন।(বুখারী ,৩০৩১, মুসলিম,১৮০১)

এ হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসূলের গালিদাতা ও কষ্টদাতাকে হত্যা করা হবে।

খলীফা হারুনুর রশীদ ইমাম মালেক রাহ.-কে (মৃ. ১৭৯ হি.) জিজ্ঞাসা করলেন, কেউ যদি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়, তাহলে বিধান কী হবে?

ইমাম মালেক রাহ. জবাব দেওয়ার আগে এমন এক বাক্য বললেন, যার আবেদন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তিনি বললেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! ওই উম্মত বেঁচে থাকার কী অর্থ, যে উম্মতের নবীকে গালি দেওয়া হয়?’

অতঃপর তিনি জবাব দিয়ে বললেন, ‘যে নবীগণকে গালি দেয় তাকে হত্যা করতে হবে, আর যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দেয় তাকে পেটাতে হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ রাহ. (মৃ. ১৮২ হি.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কিংবা তাঁর দোষ বর্ণনা করে অথবা তাঁর সম্মান খাটো করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে এবং তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। অতঃপর যদি সে তাওবা করে, তাহলে তা কবুল করা হবে; অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।

ইমাম তাহাবী রাহ. (মৃ. ৩২১ হি.) বলেন, ‘যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেবে অথবা তাকে খাটো করে উপস্থাপন করবে, এর কারণে সে মুরতাদ হয়ে যাবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তাকে সাহায্য করো ও তাকে সম্মান করো।

তিনি অন্যত্র লেখেন, হানাফী ইমামগণ বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিলে বা তাঁর দোষ বর্ণনা করলে মুরতাদ হয়ে যাবে। আর জিম্মি হলে তাকে তা’যীর করা হবে, হত্যা করা হবে না।

প্রখ্যাত ফকীহ ইবনে আবেদীন শামী রাহ. (মৃ. ১২৫২ হি.) শাতেম বিষয়ে ‘তাম্বীহুল উলাতি ওয়াল হুক্কাম আলা আহকামি শাতিমি খাইরিল আনাম’ নামে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। এতে তিনি এ কথা প্রমাণ করেছেন যে, হানাফী মাযহাবমতে মুসলিম শাতেমের তাওবা কবুল হবে এবং হত্যা করা হবে না; তবে বারবার প্রকাশ পেলে তাওবা কবুল হবে না। তিনি বলেন, ‘একজন মুসলিমের বাহ্যিক অবস্থা তো এটাই হবে যে, তার থেকে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানের খেলাফ কোনো কিছু প্রকাশ পাবে, তা হয়তো তার ভুলে বা নির্বুদ্ধিতায় অথবা মুখ ফসকে বের হয়েছে। সে দৃঢ়ভাবে সেগুলো বিশ্বাস করে এমন নয়। কাজেই সে তাওবা করে পুনরায় ইসলাম আনলে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কাফেরের ব্যাপারটা এমন নয়। কারণ, কাফেরের বাহ্যিক অবস্থা হচ্ছে, সে যা বলে তা-ই বিশ্বাস করে এবং তার উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বীনের দোষারোপ করা।

তবে যদি কোনো মুসলিম থেকে তা বারবার প্রকাশ পায় এবং এ বিশ্বাসের সাথে সে পরিচিতি লাভ করে ও দাওয়াত দিয়ে বেড়ায়, তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে এবং তার ইসলাম ও তাওবা যিন্দীকের মতো কোনোটাই কবুল করা হবে না।

তখন কাফের জিম্মি শাতেম ও মুসলিম শাতেমের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হবে না। কেননা, জিম্মি ও মুসলিম থেকে তা বারবার প্রকাশ পাওয়া এবং উক্ত বিশ্বাসের সাথে পরিচিতি লাভ করার ফলে এ কথা প্রমাণিত হবে যে, তারা যা বলে তা-ই বিশ্বাস করে এবং তাদের অন্তরে সমস্যা রয়েছে ও তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আর তাওবাকে তারা হত্যা থেকে বাঁচার জন্য তাকিয়া হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইমাম আবু বকর ইবনুল মুনযির রাহ. (মৃ. ৩১৮ হি.) বলেন, ‘অধিকাংশ আহলে ইলম ঐকমত্যভাবে বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গালাগালকারীকে হত্যা করা ওয়াজিব। এটা ইমাম মালেক, লাইস, শাফেয়ী, আহমদ ও ইমাম ইসহাক রাহ. ও তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্য।’

কাযী ইয়ায রাহ. (মৃ. ৫৪৪ হি.) বলেন, ‘একই মত ইমাম আবু হানীফা ও হানাফীদের এবং ইমাম সাওরী, আহলে কুফা ও ইমাম আওযায়ীর (তথা হত্যা করা ওয়াজিব)।

ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. (মৃ. ২৩৮ হি.) বলেন, ‘মুসলমানরা সর্বসম্মতভাবে বলেছেন, কেউ যদি আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের কটূক্তি করে, তাহলে সে কাফের। যদিও সে আল্লাহর নাযিলকৃত প্রতিটি বিষয়ের স্বীকারোক্তি প্রদান করে।

ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাহনূন রাহ. (মৃ. ২৫৬ হি.) বলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালাগালকারী ও তাঁর কুৎসাকারী কাফের হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের ইজমা হয়েছে। এমন ব্যক্তির ওপর আল্লাহর শাস্তি ও ধমক রয়েছে। উম্মাহর কাছে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে বিধান হলো হত্যা করা। আর যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তির কাফের ও শাস্তির ব্যাপারে সন্দেহ করবে, সেও কাফের।’

ইমাম আবু সুলায়মান খাত্তাবী রাহ. (মৃ. ৩৮৮ হি.) বলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটূক্তিকারী মুরতাদ। আমার জানামতে কোনো মুসলমান উক্ত মুরতাদের হত্যার আবশ্যকতার ব্যাপারে মতবিরোধ করেনি। আর মুরতাদ যদি তাওবা না করে, তাহলে পুরুষ হলে মুরতাদের শাস্তি সকলের ঐকমত্যে হত্যা বা মৃত্যুদণ্ড। তবে সে তাওবা করলে যদি যিন্দীক না হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের ঐকমত্যে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

শাতেমের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে কি না

ওপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, শাতেমে রাসূলের নিম্নোক্ত দুই বিষয়ে সবাই একমত : ১. সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে তথা মুরতাদ সাব্যস্ত হবে। ২. সে তাওবা না করলে যদি পুরুষ হয়, তার শাস্তি মুরতাদের মতো হত্যা বা মৃত্যুদণ্ড।

তবে একটু ইখতিলাফ হচ্ছে, শাতেম নিজ থেকে তাওবা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না কিংবা তাকে হত্যার পূর্বে তার থেকে তাওবা চাওয়া হবে কি না?

হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবমতে ফতোয়া হলো, যদি সে নিজ থেকে তাওবা করে অথবা তার কাছে তাওবা তলব করার পর তাওবা করে, তাহলে তা গ্রহণ করা হবে। এভাবে শাফেয়ী মাযহাবে একাধিক মত থাকলেও ফতোয়া হলো, শাতেমের তাওবা গ্রহণযোগ্য।

উল্লেখ্য, ‘ফাতহুল কাদীর’সহ ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিছু কিতাবে আছে, শাতেমের তাওবা কবুল হবে না; বরং তাকে হত্যা করতে হবে। এটা মুফতাবিহী কওল বা এ কথার ওপর ফতোয়া নয় ।

আর মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত ও হাম্বলীদের এক মত অনুযায়ী এবং অনেক আলেমের মতে শাতেমের তাওবা গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তাকে হত্যা করতে হবে।

এ ইখতিলাফের মূল কারণ হচ্ছে, তাওবা গ্রহণকারীদের মতে শাতেমের জন্য আলাদা কোনো বিধান নেই। এটা মূলত ইরতিদাদেরই একটি প্রকার। তাই মুরতাদ ও শাতেমের বিধান একই। আর শাতেমের তাওবা অগ্রহণযোগ্যের প্রবক্তরা বলেন, শরীয়ত শাতেমের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি রেখেছে। কাজেই শাতেমের শাস্তি ‘হদ’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর যে বিষয়টি ‘হদ’-এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন যিনা ও চোরের শাস্তি, সেখানে তাওবা হোক বা না হোক, কোনোভাবেই ক্ষমার সুযোগ নেই।

শাতেমের শাস্তির বিধান

শাতেম ও মুরতাদের বিধান যেহেতু একই, সুতরাং মুরতাদের যে শাস্তি, শাতেমের একই শাস্তি। আর কেউ মুরতাদ হয়ে গেলে বিধান হলো, তার নিকট দ্বিতীয়বার ইসলাম পেশ করা হবে। যদি ইসলাম নিয়ে তার কোনো সংশয়ের কারণে সে ধর্ম ত্যা করে থাকে, তাহলে তা দূর করা হবে। অথবা সে নিজে যদি সময় চায় বা তার ইসলাম কবুলের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায়, তাহলে তাকে তিন দিন সময় দেওয়া হবে যদি মুরতাদ ব্যক্তির নিকট ইসলাম পেশ করার পরও সে কবুল না করে, তাহে তাকে হত্যা করা হবে। হানাফী মাযহাবের কিতাব সমূহে মুরতাদের শাস্তির বিধা এভাবে বলা হয়েছে।

আর ইসলামী রাষ্ট্রে মুরতাদের বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত থাকবে এবং খলীফা বা তার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তা বাস্তবায়ন করবে।

এখানে একটি প্রশ্ন হলো, মুরতাদকে প্রশাসনের হাতে পেশ করার আগেই যদি কেউ হত্যা করে ফেলে, তখন কী হবে? বা কেউ এ কাজ করে ফেললে ওই ব্যক্তির কীরশাস্তি হবে?

বর্তমানে অনেক সময় এ প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় এবং সমকালীন বিভিন্ন ঘটনাররসময় খুব বেশি আলোচিত হয়। তাই এ বিষয়ে হানাফী মাযহাবের ইমামগণের কিছুর বক্তব্য পেশ করছি।

ইমাম তাহাবী রাহ. (মৃ. ৩২১ হি.) বলেন,র‘আমাদের হানাফী আলেমগণ বলেছেন, ইসলামের দিকে পুনরায় আহ্বান করা ছাড়ারমুরতাদকে হত্যা করা হবে না। তবে কেউ হত্যা করে ফেললে সে ভুল করেছে। কিন্তু তার ওপর কোনো জরিমানা আসবে না।

ইমাম মারগীনানী রাহ. (মৃ. ৫৯৩ হি.) ‘আল-হিদায়া’ গ্রন্থে বলেন, ‘কেউ যদি মুরতাদকে ইসলাম পেশ করার পূর্বে হত্যা করে ফেলে, তাহলে মাকরূহরতথা মুস্তাহাব কাজ ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে। তবে হত্যাকারীর ওপর কোনোরজরিমানা বা কিছু আরোপ করা হবে না।

‘ফাতাওয়া শামী’তে রয়েছে,‘মুরতাদের নিকট ইসলাম পেশ করার পূর্বে তাকে হত্যা করা মাকরূহে তানযীহি। কারণ, তাকে ইসলাম পেশ করা মুস্তাহাব। তবে কেউ করে ফেললে কোনো জরিমানা আসবে না।’

আল্লামা আবদুল হাই লাখনাভী রাহ. (মৃ. ১৩০৪ হি.) বিশদ ব্যাখ্যা করে বলেন,‘মুরতাদকে ইসলাম পেশ করার পূর্বে হত্যা করে ফেললে একটি মুস্তাহাব কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে মাকরূহে তানযীহির গুনাহ হবে। কারণ, মুরতাদকে দ্বিতীয়বার ইসলাম পেশ করাটা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।…

‘হত্যাকারীর ওপর কোনো জরিমানা আসবে না’–এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, এই হত্যার কারণে হত্যাকারীকে কোনো রকম দিয়াত বা কাফফারা কিছুই দিতে হবে না। কারণ, সে এমন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, যে হত্যার উপযুক্ত ছিল। কাজেই সে একটি বৈধ কাজ করেছে। আর বৈধ কাজে কোনো জরিমানা আসে না। সর্বোচ্চ এতটুকু বলা হবে, সে একটি মুস্তাহাব আমল ছেড়ে দিয়েছে।

বলাবাহুল্য, এটা হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্রের বিধান। কাজেই আমাদের বাংলাদেশসহ গণতান্ত্রিক দেশসমূহে কিন্তু প্রশাসন হত্যাকারীকে এমনি ছেড়ে দেবে না।

এখন প্রশ্ন আসবে, তাহলে কেউ শাতেম বা মুরতাদ প্রমাণিত হলেই তাকে মেরে ফেলবে জনগণ?

উত্তর :

জনগণ আইন হাতে তুলে নেবে না এবং তাকে মারবে না; বরং এই কাজ রাষ্ট্র ও প্রশাসন করবে। আর রাষ্ট্রপক্ষ এই কাজ করতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাধ্য। তা ছাড়া জনগণ আইন হাতে তুলে নিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে বা অনেকে এই সুযোগে অহেতুক হত্যা ও ফাসাদে লিপ্ত হবে। কাজেই জনগণ এতে কোনো দখল দেবে না। এটাই ইসলামের বিধান এবং ইসলাম এটাই শিক্ষা দেয়।

কিন্তু কোনো ব্যক্তি শাতেম বা মুরতাদ হওয়াটা যদি স্পষ্টভাবে ও নিঃসন্দেহে প্ৰমাণিত হয়, আর যদি কোনো মুসলিম ঈমানী গায়রত থেকে উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো জেল-জরিমানা আরোপ করা হবে না। এভাবে তার নিন্দা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না, কিংবা এই ধরনের কাজ ইসলাম সমর্থন করে না—এ-জাতীয় কথাও বলা যাবে না।

তবে হ্যাঁ, উক্ত ব্যক্তিকে হত্যার পর যদি সে শাতেম বা মুরতাদ হওয়াটা প্রমাণিত না হয়, তাহলে ইসলাম কাউকে খুন ও হত্যা করার যে শাস্তি মোস্তাকে হত্যাকারীর ব্যাপারে ফয়সালা করা হবে।

জি, এটাই ইসলামের আদল ও সৌন্দর্য, যা মানুষকে ঈমানী গায়রত শিক্ষা দেবে সাথে সাথে এটাও সতর্ক করে দেবে যে, যদি ঈমানী গায়রতের জযবা সঠিকভাবে প্রয়োগ না করে, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানেই তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

আল্লাহ আমাদের বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি থেকে মুক্ত থেকে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করার এবং মুসলমানদের তাদের ঈমানী গায়রত ও জযবা সঠিকভাবে প্রয়োগ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

তথ্য সূত্রঃ

কিতাবঃ ঈমান – আকিদা ১

লেখকঃ মাওলানা সাঈদ আহমদ উস্তাদঃ দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

এই ব্লগটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

খুশি
0
আরও উন্নত হতে পারে
0

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *